ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এ ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি। ফলে সংঘাত শেষ হওয়ার পরও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। খবর আনাদোলু।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি তেল ক্ষেত্র, শোধনাগার ও পাইপলাইনগুলো আবার চালু করতে বেশ সময় লাগবে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ লড়াই পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। বিশেষ করে মার্চের শুরু থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ফাতিহ বিরোল বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘এ সংকটের প্রভাব গত সত্তরের দশকের দুটি বড় জ্বালানি তেল সংকট এবং ২০২২ সালের প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের সম্মিলিত রূপের সঙ্গে তুলনীয়। বর্তমানে শুধু জ্বালানি তেল বা গ্যাস নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান ধমনি হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক পথও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।’
ফাতিহ বিরোল বিশেষভাবে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর এ সংকটের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ অঞ্চলের দেশগুলো জ্বালানি চাহিদার জন্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশই প্রথমে নিজস্ব স্বার্থ দেখে। তবে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া রফতানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে ভালো কোনো ফল আসবে না। এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরো অস্থির করে তুলতে পারে।’
জ্বালানি সরবরাহ সংকট সামাল দিতে আইইএ জরুরি রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। ফাতিহ বিরোল বলেন, পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে অতিরিক্ত রিজার্ভ থেকেও জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতে পারে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। জলপথটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। মার্চের শুরু থেকে জলপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের খরচ অনেক বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ জ্বালানি সংকট আরো গভীর হয়েছে।